সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন

জিনের বাদশা’ সেজে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়েছে চক্রটি

RM টিভি বাংলা ডেস্ক / ৮৬ বার পঠিত
আপডেট : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের এক নারীর স্বামী বিদেশ থাকেন। তার দুরারোগ্য ব্যাধি ছিল। এই রোগ থেকে মুক্তির আশায় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন দেখে ‘জিনের বাদশা’কে ফোন করলে ওই ভুক্তভোগী নারীকে বলা হয়, তার সমস্যার সমাধান করা হবে। জিনের বাদশা নামধারী চক্রটি ওই নারীকে ফাঁদে আনার জন্য প্রথমে ৯৯৯ টাকা নেয়। তবে এই টাকা গরিব মানুষদের খাওয়ানো হবে বলে জানানো হয়।

এরপর ধাপে ধাপে ‘জিনের বাদশা’র সঙ্গে কথা বলে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় প্রায় ২২ লাখ টাকা খোয়ান ওই নারী। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রিয়জনের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আত্মসাৎ করত। গত ছয় মাসে চক্রটি বিভিন্নজনের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এরপর ওই নারী প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে চট্টগ্রামের খুলশি থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে জিনের বাদশা পরিচয় দানকারী তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন- মূলহোতা মো. আল আমিন, মো. রাসেল ও মো. সোহাগ।

বুধবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদরদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুক্তা ধর।

তিনি বলেন, জিনের বাদশা পরিচয়দানকারী মো. আল আমিন বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মসহ কেবল নেটওয়ার্কের লোকাল চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করা, বিদেশে যাওয়ার সুব্যবস্থা করা, দাম্পত্যকলহ দূর করা, বিয়েতে বাধা দূর করা, অবাধ্যকে বাধ্য করা, চাকরিতে পদোন্নতি, কমদামে স্বর্ণ সমস্য সমাধানের জন্য বিজ্ঞাপন দিত। সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন মানুষ যোগাযোগ করলে মেয়েদের কণ্ঠে কথা বলে তাদের ফাঁদে পেলে এবং পরবর্তীতে তাদের কথা অনুযায়ী কাজ না করলে প্রিয়জনের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করত।

মুক্তা ধর বলেন, জয়যাত্রা টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে প্লাটফর্মে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেয়া হতো। ওই বিজ্ঞাপনে একটা মোবাইল নম্বর দেয়া হতো। সেই নম্বরে ফোন দিলে একজন ফোন রিসিভ করে ফোনদাতার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নিতেন। পরে ওই ফোনদাতাকে বলা হতো তারা যেভাবে কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে গরিব মানুষকে একবেলা খাবার দিতে হবে। ৯৯৯ টাকা বা ১১১১ টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর পর জিনের বাদশার নম্বর দিলে রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ফোন করলে জিনের বাদশা কথা বলবেন। টাকা দেয়ার পরবর্তী ধাপে ওই নম্বরে ফোন দিলে একজন পুরুষ ফোনটি রিসিভ করেন। সালাম বিনিময়ের পর পরিবারের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নেন। জিন-পরীর যে মা আছেন তার সাথে কথা বলিয়ে দেবেন। পরে সাধনা করে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই চক্র জানায়- চট্টগ্রামের ওই ২২ লাখ টাকা খোয়া যাওয়া ভুক্তভোগী নারীর বাসার নিচে আড়াই কেজি স্বর্ণ লুকায়িত আছে, সেটা পাহারায় অজগর সাপ রয়েছে। ওই স্বর্ণ আনতে পারলে আমাদের একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করে দিতে হবে। পরে তাকে বলা হয়, সাপকে খাওয়ানোর জন্য আড়াইমণ দুধ ও ১০ কেজি আতর লাগবে। ওই নারীর কাছ থেকে চক্রটি ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীকে বলা হতো আপনি স্বামী-সন্তান বা অভিভাবককে এসব কথা জানাবেন না। এতে তার স্বামী ও সন্তানদের ক্ষতি হতে পারে।

মুুক্তা ধর আরও বলেন, ছয় মাসে তাদের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এখানে আমরা কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছে থেকে যে তথ্য পেয়েছি সেটা অর্ধকোটি টাকা। তাদের কাছ থেকে তদন্ত করলে এর পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার খায়রুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
Theme Customized By Theme Park BD